লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

একজন শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যান শিক্ষক

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 14 সেপ্টেম্বর 2026, 10:13 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 76 বার পঠিত
একজন শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যান শিক্ষক
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে একমাত্র শিক্ষার্থীর পাঠদানে প্রতিদিন ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ৫ কিলোমিটার দুর্গম পথ হেঁটে যাতায়াত করছেন ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক জীবন মিথারি। বিদ্যুৎহীন কাওয়ালটেক ধাঙ্গারওয়াড়া জেলা পরিষদ বিদ্যালয়ে একমাত্র নিবন্ধিত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বরা বোদাককে পড়াতে চিতাবাঘ ও বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি উপেক্ষা করে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • কোলহাপুর-সিন্ধুদুর্গ সীমান্তের গগনবাওয়াড়া তালুকের কাওয়ালটেক ধাঙ্গারওয়াড়া জেলা পরিষদ বিদ্যালয়ে একমাত্র নিবন্ধিত শিক্ষার্থী স্বরা বোদাক (তৃতীয় শ্রেণি)।
  • বিদ্যালয়টিতে যাতায়াতের জন্য কোনো সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় নিকটতম পাকা রাস্তা থেকে প্রতিদিন শিক্ষক জীবন মিথারিকে আসা-যাওয়া মিলিয়ে ৫ কিলোমিটার দুর্গম জঙ্গল পাড়ি দিতে হয়।
  • ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই এই প্রত্যন্ত বিদ্যালয়ে যোগ দেন কোলহাপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমবায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জীবন মিথারি।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

শিক্ষাদানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার ৫৫ বছর বয়সী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জীবন মিথারি। বিদ্যালয়ের একমাত্র নিবন্ধিত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বরা বোদাককে পাঠদান করাতে তিনি প্রতিদিন ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ঘেরা দুর্গম পথ দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে যাতায়াত করছেন। কোলহাপুর-সিন্ধুদুর্গ সীমান্তের গগনবাওয়াড়া তালুকের প্রত্যন্ত জনপদ কাওয়ালটেক ধাঙ্গারওয়াড়ার জেলা পরিষদ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন তিনি।

কাওয়ালটেক ধাঙ্গারওয়াড়া গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এবং বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য কোনো পাকা সড়কও নেই। নিকটতম প্রধান সড়ক থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার হওয়ায় প্রতিদিন যাওয়া এবং আসা মিলিয়ে মোট ৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় মিথারিকে। ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই এই প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা স্বাভাবিক থাকলেও, পরবর্তীতে উন্নত জীবিকার তাগিদে গ্রামবাসী কোলহাপুর শহরে স্থানান্তরিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়ে বর্তমানে মাত্র একজনে এসে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যালয়টির অবস্থান বন্যপ্রাণী অধ্যুষিত অঞ্চলে হওয়ায় প্রতিদিনের পথচলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গভীর জঙ্গলের এই পথে প্রায়ই ভারতীয় বাইসন (গাউর) ও চিতাবাঘের আনাগোনা দেখা যায়। অতীতে কোলহাপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করলেও সুবিধাজনক কর্মস্থলের পরিবর্তে মিথারি স্বেচ্ছায় এই দুর্গম অঞ্চলকে বেছে নেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার কৌশল শিখে তিনি অবিচলভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

শিক্ষক জীবন মিথারির এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে পেশাগত দায়িত্ববোধের কাছে ভৌগোলিক প্রতিকূলতা কখনোই বাধা হতে পারে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিশুও যেন প্রাথমিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে তাঁর এই একক প্রচেষ্টা ভারতের গ্রামীণ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অনুপ্রেরণীয় নজির স্থাপন করেছে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ