একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১৬ হাজার ১৫৪ কোটি টাকার মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। বৈঠকে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদিত হয়। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
- প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যখাতে টিবি, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলা প্রকল্প, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ স্থাপন, এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
- পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ১৬ হাজার ১৫৪ কোটি টাকার ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সেবাধর্মী প্রকল্পগুলোর সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ৮টি, সংশোধিত প্রকল্প ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে ২টি। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ, বিমানবন্দর এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়াধীন টিবি, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা জোরদারের একটি নতুন প্রকল্প এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগের ভূমি অধিগ্রহণ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পেও বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে।
সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, এখন থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এবং ব্যয় যেন কোনোভাবেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ানো না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে রাতারাতি সকল অনিয়ম বা দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতের এই প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ ও জনপদ পর্যায়ে আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। বিশেষ করে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে ব্যয় সংকোচন ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষের তাগিদ দেওয়ায় অপচয় রোধ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার এখন টিভি-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।