এসআই হত্যায় মাদকসেবীদের অভিযুক্ত করে ছেলে বললেন, ‘ওরা তিন বেলা নেশা করে
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"সাভারের আমিনবাজারে মাদকাসক্ত সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেন (৫৮) নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করায় তাঁর পোশাক কারখানায় ঢুকে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা হয়েছে এবং প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নিহত এসআই আলতাব হোসেন (৫৮) এসবির মালিবাগ কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন; হামলায় তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও (২৬) গুরুতর আহত হন।
- সাভার মডেল থানায় নিহতের স্ত্রী শিউলি পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
- ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাভারের নামাবাজার থেকে মূল অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ প্রশাসন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় মাদকাসক্ত সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেন (৫৮) নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে কারখানাসংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে রক্ষায় এগিয়ে গিয়ে তিনি এ হামলার শিকার হন। এ সময় হামলাকারীদের মারধরে তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও (২৬) গুরুতর আহত হন। নিহত আলতাব হোসেনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়ায়।
পারিবারিক ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে আমিনবাজারে গাড়ির সাইড দেওয়া নিয়ে স্থানীয় গ্যারেজ মালিক কালামকে মারধর করছিল সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কারে থাকা মাদকসেবী দুর্বৃত্তরা। এসআই আলতাব হোসেন পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা তাঁর ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে আলতাব হোসেন দৌড়ে তাঁর ছেলেদের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নিলে ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার দুপুরে নিহতের স্ত্রী শিউলি পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে সাভারের নামাবাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আমিনবাজারের ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আড্ডা ও বেপরোয়া চলাফেরা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি চরম রূপ নিয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।