হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই করছে, পাঁচ মাস পরও কেন থামানো যাচ্ছে না?
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দেশে গত সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চলা হামের মহামারিতে শিশুমৃত্যু প্রায় হাজার ছুঁয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে ৯৯৪ শিশুর মৃত্যু এবং ১ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে। ১ কোটি ৯৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও লক্ষ্যমাত্রার ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জিত না হওয়ায় সংক্রমণ থামছে না।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ১৫ মার্চ থেকে চলা হামের প্রাদুর্ভাবে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৪ জনে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার দাবি করলেও জুন মাসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুর উপস্থিতি টিকার বড় ধরনের ঘাটতি ও তথ্যবিভ্রাট স্পষ্ট করেছে।
- বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না; জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে পুরনো আদমশুমারির ডেটা ব্যবহার করায় প্রায় ৪৪ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ মাসে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশিতে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় খুলনা, কুমিল্লা ও মৌলভীবাজারে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে এক হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নেওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীর উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
গত মার্চের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে এই শতভাগ কভারেজের দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে জুনের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে, যেখানে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। ফলে স্পষ্টতই প্রায় ৪৪ লাখের বেশি শিশু হামের টিকার বাইরে থেকে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে টিকা কর্মসূচি শুরু করায় মাঠপর্যায়ে প্রকৃত শিশুর সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তৃণমূলের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা না করায় এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশে কার্যকর ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়াতে হয়েছে। জুনের দিকে রোগীর চাপ কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা পুনরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুল ইসলাম।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা না হলে শিশুমৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ডেঙ্গু বা সাধারণ জ্বরের সঙ্গে পার্থক্য নিরূপণ করে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bbc.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।