কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষা, ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাশিয়ার জ্বালানি নিয়ে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তায় মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন ঘটেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে, আর এমএসসিআই সূচক কমেছে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।
- গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী মেটাসহ পাঁচটি বড় এআই কোম্পানির সম্মিলিত মূলধনি ব্যয় আগামী বছর প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৮৫ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৯ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফল প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। এর সঙ্গে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাশিয়ার জ্বালানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা বাজারকে আরও নেতিবাচক দিকে নিয়ে গেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ বাজার-প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের বাইরে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর এমএসসিআই সূচক ১ দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে। এছাড়া জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ নেমেছে।
বিনিয়োগকারীদের মূল নজর এখন মেটা, টেসলা, ল্যাম রিসার্চ, টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস, স্পেসএক্স এবং নেটফ্লিক্সের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ত্রৈমাসিক আয়ের ওপর। এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করতে পারছে কি না, তা যাচাই করতেই বিনিয়োগকারীরা এই ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব উদ্ধৃত করে জানা গেছে, মেটাসহ পাঁচটি বড় এআই অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মূলধনি ব্যয় আগামী বছর প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার এআই অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান এলিস গ্রুপের প্রথম দিনের লেনদেনেও এই সতর্কতার প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে আইপিও দরের তুলনায় শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কমে যায়।
শেয়ারবাজারের এই মন্দার বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকির পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা তেলের বাজারকে প্রভাবিত করছে। মঙ্গলবারে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৮৫ ডলারে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৯ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ২৫ ডলারে উন্নীত হয়। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ফ্রান্সের প্যারিস, লিল ও নিসের কিছু এলাকায় কারফিউ ও চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের স্থায়িত্ব, জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখন কোম্পানিগুলোর ত্রৈমাসিক আয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছেন, যা আগামী দিনগুলোতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।