রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এখন থেকে ডিএমডি হিসেবে দুই বছরের বাধ্যতামূলক অভিজ্ঞতার শর্ত ছাড়াই এমডি পদে আবেদন করা যাবে। সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিলের পর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতেই সরকার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নতুন নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি হওয়ার জন্য উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে ২ বছর কাজের পূর্বশর্ত বাতিল করা হয়েছে।
- সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আব্দুল জব্বার এবং রূপালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ তিন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তি বাতিল করেছে সরকার।
- ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ধারা ১৫-এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সাপেক্ষে নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই শিথিলতা কার্যকর করা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগের জন্য ডিএমডি হিসেবে দুই বছর কাজের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকিং খাতে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আব্দুল জব্বার এবং রূপালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করায় এখন ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সরাসরি এমডি পদের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ এবং তারল্য সংকট নিরসনে দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তি বা 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (এনওসি) নেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন এই নীতিমালার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আসবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।