১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিশ্ববাজারে রুপার দাম প্রতি আউন্স ৩১.৭০ ডলারে স্থির থাকলেও কমেছে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দর। প্লাটিনাম ১.৩ শতাংশ কমে ১,০০৮.৮৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ২.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,০৬০.৭৪ ডলারে নেমেছে। তবে চীনের অর্থনৈতিক উদ্দীপনা প্যাকেজের প্রভাবে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো শিল্প ধাতুর দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রতি আউন্স ৩১.৭০ ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে প্লাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১,০০৮.৮৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.১ শতাংশ কমে ১,০৬০.৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- শিল্প ধাতুর বাজারে তামার দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৯,৬২৬ ডলারে পৌঁছেছে এবং অ্যালুমিনিয়ামের দাম ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৬২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
- চীনের নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনা ঘোষণার ফলে নিকেল ও দস্তার দামও যথাক্রমে ১.১ শতাংশ ও ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ববাজারে শিল্প ধাতুর চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে আজ ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মূল্যবান ধাতু রুপার দাম স্থিতিশীল থাকলেও বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের ক্ষেত্রে। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রুপার ওপর আস্থা রাখায় এর দাম প্রতি আউন্স ৩১.৭০ ডলারে স্থির রয়েছে। তবে অটোমোবাইল শিল্পে ব্যবহৃত প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের চাহিদা হ্রাসের আশঙ্কায় এগুলোর বাজারদর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্লাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,০০৮.৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়াম ২.১ শতাংশ দর হারিয়ে ১,০৬০.৭৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বিপরীতে, বিশ্বের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনের পক্ষ থেকে নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনা ঘোষণার পর শিল্প ধাতুর বাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তামার দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৯,৬২৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ধাতব বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বড় বিনিয়োগকারীরা। রুপার দাম স্থিতিশীল থাকার পেছনে এটি একটি বড় কারণ। তবে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দরপতন মূলত বৈশ্বিক গাড়ি উৎপাদন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ক্রমবর্ধমান আধিপত্য এবং প্রথাগত ক্যাটালিটিক কনভার্টারের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রতিফলন। এছাড়া নিকেল ও দস্তার দামও যথাক্রমে ১.১ শতাংশ ও ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জুয়েলারি শিল্পে রুপার সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক্স খাতে তামার ক্রমবর্ধমান দাম উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। আগামী কয়েক দিনে ডলার ইনডেক্সের গতিপ্রকৃতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই ধাতুগুলোর বাজারদর নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।