ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের নির্দেশে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। বিচারক জিনসুক ওহতা আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরুর আদেশ দিয়েছেন। রেড ঈগল ল-এর করা মামলায় আদালত ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সময়সূচি ঘোষণার নির্দেশ দেন। প্রতিবছর ৫৫ হাজার অভিবাসী এই গ্রিন কার্ডের সুযোগ পান, যেখানে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের যোগ্যতা সম্পন্ন নাগরিকরা আবেদনের সুযোগ পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা ১৪ অক্টোবর এক আদেশে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।
- ‘রেড ঈগল ল’ নামক আইন প্রতিষ্ঠানের মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এই রায় দেন; যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে নির্ধারিত সময়ে আবেদন শুরু না করে কর্মসূচিটি কার্যত আটকে রাখা হয়েছে।
- ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার যোগ্য নাগরিককে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ড প্রদান করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড লটারি’ বা ডিভি লটারি ২০২৭ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার বিচারক জিনসুক ওহতা গত ১৪ অক্টোবর এক যুগান্তকারী আদেশে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে, যা সাধারণত ৩০ দিন পর্যন্ত চালু থাকে।
এই আইনি লড়াইয়ের মূলে ছিল ‘রেড ঈগল ল’ নামক একটি আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি লটারি কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করে কার্যত এটি স্থগিত করে রেখেছে, যা আবেদনকারী ও আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল অনগ্রসর ও কম প্রতিনিধিত্বশীল দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ করে দেওয়া।
ডিভি লটারির আওতায় প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা প্রদান করা হয়। আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্দিষ্ট পেশায় কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। তবে লটারিতে নাম আসা মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়; নির্বাচিতদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তার স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানরাও অভিবাসনের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
আদালতের এই রায়ের ফলে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি এবং যোগ্যতার শর্তাবলির জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন শ্রমবাজার এবং বৈচিত্র্যময় জনমিতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।