স্কুলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন সেবা বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। আগামী বছরের শুরুর দিকে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। ক্লাসরুমে এআই সংযুক্তি ও এর প্রভাব নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (কে-১২) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী বছরের শুরু থেকে গুগলের নতুন এআই নীতিমালা কার্যকর হবে।
- কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এআই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করলে তারা গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের সুবিধাও চিরতরে হারাবে।
- জেমিনাই, জেমিনাই নোটবুক, জেমিনাই ইন ক্লাসরুম এবং গুগল সার্চের ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ সক্রিয় না করা পর্যন্ত সেবাগুলো বন্ধ থাকবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রাখলে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন সেবা বন্ধ করে দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। আগামী বছরের শুরুর দিকে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (কে-১২) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ডিফল্টভাবে এআইয়ের ব্যবহার সীমিত থাকবে। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি ক্লাসরুমে এআই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তারা গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের সুবিধাও হারাবে। মঙ্গলবার এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় স্কুল প্রশাসকদের গুগলের এডুকেশন সফটওয়্যারে প্রবেশ করে নিজ উদ্যোগে এআই ফিচারগুলো চালু করে নিতে হবে। মূলত ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীরা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হচ্ছে এবং এর নৈতিক প্রভাব কী, তা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ব্যাপক উদ্বেগের কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেমিনাই, জেমিনাই নোটবুক, জেমিনাই ইন ক্লাসরুম এবং গুগল সার্চের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে সক্রিয় না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে এসব সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
এআই বন্ধ করলে কেন সার্চ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে গুগলের এডুকেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ফিলিপস জানান যে, আধুনিক সার্চ ইঞ্জিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন একে অপরের সাথে অত্যন্ত গভীরভাবে যুক্ত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেসব স্কুল এআই ফিচার বন্ধ রাখবে, সেখানকার শিক্ষার্থীরা গুগলের সার্চ সুবিধাও পাবে না এবং তারা স্ক্রিনে দেখতে পাবে যে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেই সেবাটি বন্ধ রেখেছে। স্কুল, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষা নীতি-নির্ধারকদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে এই রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় গুগলের সার্চ ইঞ্জিন, জিমেইল সেবা এবং ক্রোমবুক ল্যাপটপ অত্যন্ত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গুগল জানিয়েছে, ক্লাসরুমে প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এআই ব্যবহারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সরাসরি স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আগামী মাসগুলোতে গুগল বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।