কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা একটি চারতলা রিসোর্টসহ মোট ১৩টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে চলা এই উচ্ছেদ অভিযানে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। এর ফলে সৈকতের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর জোরালো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় সরকারি অনুমোদন এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে নির্মিত একটি চারতলা রিসোর্টসহ মোট ১৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
- জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে ভারী বুলডোজার ব্যবহার করে অবৈধ স্থাপনাগুলোর কংক্রিটের কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
- পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং রাজউক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন না থাকায় সৈকত ও পাহাড়ি এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট ইনানীর মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ও অনুমোদনহীন স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি পরিচালিত এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে একটি চারতলা রিসোর্টসহ মোট ১৩টি অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সৈকত ও এর আশেপাশের সংরক্ষিত এলাকায় এই স্থাপনাগুলো গড়ে তুলেছিল।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রিসোর্ট ও অন্যান্য স্থাপনাগুলোর কর্ণধাররা প্রশাসনের দাবিতো কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। রাজউক কিংবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব কংক্রিটের কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের টনক নড়ে এবং সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ইনানী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকার অনেক হোটেল-রিসোর্ট অগ্নিনিরাপত্তা ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে, যা পর্যটকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এই ১৩টি স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অবৈধ স্থাপনাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই উচ্ছেদ অভিযান কক্সবাজারের পর্যটন খাতের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অপরিকল্পিত ও অবৈধ নির্মাণের কারণে এতদিন সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজারের উপকূলীয় প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে আইন মেনে পর্যটন বান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালিকপক্ষ বাধ্য হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।