ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতার লালবাজারে তলব করা হয়েছে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে। তাঁর মালিকানাধীন 'আই এসকেপ' ও 'মায়রা' নামক দুটি সংস্থা নিয়ে চলছে এই তদন্ত। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি অর্থ পাচারের অভিযোগে ইডিও ঘটনার তদন্ত করছে। সুপ্রিম কোর্ট এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইউনেস্কোর লোগো ও নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে তলব করা হয়েছে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে।
- তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও পুলিশের দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ের নামে থাকা 'আই এসকেপ' ও 'মায়রা' নামক দুটি সংস্থার মাধ্যমে এই দুর্নীতির অর্থ লেনদেন হয়েছে।
- গ্রেফতারির আগে সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজের পর বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি প্রসন্ন ভি ভারালের বেঞ্চ অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এবার কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে তলব করা হলো ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, 'আই এসকেপ' এবং 'মায়রা' নামের দুটি সংস্থার মালিকানা রয়েছে তাঁর মেয়ের নামে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কীভাবে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেই টাকা হাত ঘুরে ঠিক কোথায় কোথায় পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই মামলার তদন্ত কেবল কলকাতা পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, সমান্তরালভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রকাশিত প্রেস বিবৃতিতে অতীতে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা থেকে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই ইস্যুটিকে সামনে এনে শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন।
এদিকে, গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন ভি ভারালের বেঞ্চে শুনানিকালীন রাজ্য পুলিশের পক্ষে আইনজীবী তুষার মেহতা জানান যে ইন্দ্রনীল সেন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়ায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এরপর আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং শীর্ষ আদালত অভিযুক্তকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
দুর্নীতির এই জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা উদঘাটনে এখন জোরেশোরে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের আর্থিক প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা জনমানসে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং আগামী দিনে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া আরও জটিল মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।