কলকাতার পুজোর পাস বিক্রি ও আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে রাজ্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসুর ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে লালবাজার। পুলিশ জানিয়েছে, ধ্রুবজ্যোতির সংস্থা থার্ড লাইন এ ক্রিয়েশনের মাধ্যমে ইন্দ্রনীল সেনের পরিবার-সংযুক্ত সংস্থায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়। তাছাড়া, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি সাব-কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল অভিযুক্তের প্রতিষ্ঠান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তদন্তকারী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধ্রুবজ্যোতি বসুর সংস্থা 'থার্ড লাইন এ ক্রিয়েশন' থেকে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর মেয়ের সংস্থায় মোট ১ কোটি ৫০ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে।
- লালবাজারের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেনের তত্ত্বাবধানে ধ্রুবজ্যোতির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে ৫০ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়।
- গত ৪ নভেম্বর পুজোর পাস বিক্রি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভর সংস্থা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান 'মাস আর্ট সোসাইটি'-তে কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে ৬৬ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার পুজোর পাস বিক্রি মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর আর্থিক দুর্নীতির হদিস পেল লালবাজারের তদন্তকারীরা। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে গত ৪ নভেম্বর গ্রেফতার করার পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। পুলিশের দাবি, দুর্নীতির এই পুরো চক্রে ধ্রুবজ্যোতি মূলত নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি ছিলেন প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অত্যন্ত আস্থাভাজন। গোয়েন্দাদের হাতে আসা নথিপত্র অনুসারে, ধ্রুবজ্যোতির মালিকানাধীন 'থার্ড লাইন এ ক্রিয়েশন' নামক সংস্থা থেকে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর মেয়ের সঙ্গে যুক্ত দুটি আলাদা সংস্থায় মোট ১ কোটি ৫০ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ধ্রুবজ্যোতির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পক্ষ থেকে মোট ৫০ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার সাব-কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাতেন ইন্দ্রনীল সেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই নির্দিষ্ট সময়ে ধ্রুবজ্যোতির সংস্থা ৫০ বারেরও বেশি সরকারি টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছিল, যার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অলাভজনক সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত 'মাস আর্ট সোসাইটি'-র অ্যাকাউন্টে কালো টাকা সাদা করার অসৎ উদ্দেশ্যে ৬৬ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল ধ্রুবজ্যোতির এই প্রতিষ্ঠান।
গ্রেফতারকৃত ধ্রুবজ্যোতি বসুকে গত ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা। এই ঘটনার জেরে ধ্রুবজ্যোতির নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক লেনদেন, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ব্যাংকিং নথিও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে সরকারি পদ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এত বড় অংকের আর্থিক তছরুপ এবং ভুয়া লেনদেন চালানো হয়েছিল।
এই হাই-প্রোফাইল দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধ্রুবজ্যোতিকে জেরা করে এবং আর্থিক নথিগুলো খতিয়ে দেখলে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকের নাম এবং চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির নতুন তথ্য বেরিয়ে আসবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।