মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি তীব্র করেছে চীন। লাদাখ সীমান্ত ও তাইওয়ান প্রণালীতে অতি গোপনীয়তায় হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেলযুক্ত ‘ডিএফ-১৭’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে বেইজিং। পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন নজরদারির অনুপস্থিতি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এই সংকটের পূর্ণ ফায়দা নিতেই পিপলস লিবারেশন আর্মি তাদের কৌশলগত স্ট্রাইক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সীমান্ত এলাকায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হাইপারসনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন 'ডিএফ-১৭' (DF-17) ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকার সুযোগটি পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাচ্ছে বেইজিংয়ের সামরিক নেতৃত্ব।
- এই উন্নত ব্রহ্মাসস্ত্র মোতায়েনের ফলে লাদাখ সীমান্ত এবং তাইওয়ান প্রণালী—উভয় অঞ্চলেই ভারতের ও তাইওয়ানের নিরাপত্তা ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বর্ধিত ব্যস্ততার সুযোগ গ্রহণ করে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান সুদৃঢ় করছে চীন। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) অতি আধুনিক ও বিধ্বংসী 'ডিএফ-১৭' হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল সিস্টেম সীমান্ত ও সংবেদনশীল অঞ্চলে মোতায়েন করা শুরু করেছে। পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ওয়াশিংটনের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় এই ভূ-রাজনৈতিক শূন্যতার পূর্ণ ফায়দা তুলছে শি জিনপিং প্রশাসন।
ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত প্রথাগত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে ৫ গুণ বেশি বেগে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে হাইপারসনিক গ্লাইড প্রযুক্তির কারণে এটি যেকোনো আধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বা আকাশ প্রতিরক্ষা ঢাকাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে। কৌশলগতভাবে এই অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে লাদাখ সীমান্ত এবং তাইওয়ান প্রণালীকে কেন্দ্র করে চীন তাদের সামরিক মহড়া ও রসদ সরবরাহ নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও গোয়েন্দা নজরদারি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনমুখী থাকায় ইন্দো-প্যাসিফিক ও এশীয় অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী নীতি বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হয়েছে। ভারতীয় সামরিক থিঙ্কট্যাংকগুলো মনে করছে, লাদাখ সেক্টরে এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) যেকোনো মুহূর্তেই শক্তির ভারসাম্য বেইজিংয়ের অনুকূলে চলে যেতে পারে। একই সঙ্গে তাইওয়ান সংকটেও এই অস্ত্র বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ তৈরি করবে।
এই সামরিক প্রস্তুতি কেবল তাইওয়ান দখল বা লাদাখ দখলের কৌশলগত মহড়াই নয়, বরং বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একযোগে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি এই সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।