সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২০ জনের বেশি বেসামরিক নাবিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, তেহরানের বাছবিচারহীন আগ্রাসনে প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামো ও সমুদ্রগামী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।
- সেন্টকম ইরানের সামরিক তৎপরতাকে 'বাছবিচারহীন আগ্রাসন' হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে যে, তেহরান পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ও জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
- এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও, সেন্টকমের পক্ষ থেকে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, বিগত কয়েক মাসের ধারাবাহিক ইরানি হামলায় ২০ জনের বেশি বেসামরিক নাবিক নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং পারস্য উপসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক কূটনৈতিক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন যে, তেহরান কখনোই প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান বা হামলা চালায়নি। তবে সেন্টকমের সাম্প্রতিক বিবৃতি এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ডের মতে, ইরানের এসব তৎপরতা কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকিতে ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
যদিও সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে ২০ জনের বেশি বেসামরিক নাবিক নিহত হওয়ার জোরালো দাবি তুলেছে, তবে ঠিক কোন কোন জাহাজে বা কোন নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য বা মৃত নাবিকদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুতর অভিযোগ তোলার পর তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অভিযোগ দুই দেশের মধ্যকার চলমান শীতল লড়াইকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অঞ্চলের সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।