মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ইরান ও তার সমমনা গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৬টিরও বেশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিসহ বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে বহু হ্যাঙ্গার, গুদাম ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে কৌশলগত সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরান ও সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
- কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানসহ ১৫টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও আগাম সতর্কবার্তা অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বহু সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ইরান এবং এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সময়ে ওই অঞ্চলে ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতির সুরক্ষাকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, হামলায় কৌশলগতভাবে প্রথমে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর আগাম সতর্কব্যবস্থা, রাডার এবং বিমান প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এগুলো অকার্যকর করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, অস্ত্র ও রসদের গুদাম, এবং সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা চালানো হয়, যার ফলে প্রায় ১৫টি বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং একাধিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটি, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে চালানো হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর মূল্যবান ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানসহ একাধিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে ওই অঞ্চলে অন্তত ১৫টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনা ও ঘাঁটিগুলো এখনো সুরক্ষিত এবং পর্যাপ্ত সক্ষমতা বজায় রয়েছে। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এতটাই বেশি যে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বহু বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে।
র্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেনসহ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সস্তা ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের বহুল ব্যবহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভবিষ্যতের সংঘাতে এ ধরনের আক্রমণ ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান পরিস্থিতি কেবল মার্কিন সামরিক কৌশলকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং সংঘাত শেষে ওই অঞ্চলে আগের মতো সামরিক উপস্থিতি পুনর্গঠন করা হবে কি না, তা নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।