৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান ও তাদের মিত্ররা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় সাতটি দেশের অন্তত ৮৪টি অবকাঠামোতে ১৩৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেল রপ্তানি বন্দর, গ্যাস কেন্দ্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিখুঁত এসব হামলায় জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও ইরাকের অন্তত ৮৪টি অবকাঠামোগত স্থাপনায় ১৩৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান ও তার মিত্ররা।
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত ফুজাইরা বন্দরেই অন্তত ১৯ বার হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালির বিকল্প এই তেল রপ্তানি পথ এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স গত সাত মাসে দশের অধিক প্রতিবেশী দেশ ও শত শত বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের নির্বিচার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
উপসাগরীয় অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে একের পর এক নিখুঁত ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি বন্দর, পাইপলাইন, গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানিশোধনাগারের মতো ৮৪টি স্থাপনায় ১৩৫টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বাহিনী এবং তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় পরিচালিত এই হামলাগুলো কেবল আকস্মিক ছিল না, বরং অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক ছিল। অনেক ক্ষেত্রে হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি, যা অচল হয়ে পড়ায় পুরো শিল্পকারখানা কিংবা সরবরাহব্যবস্থা থমকে গেছে। কিছু স্থাপনা ভবনের ছাদের নিচে বা এমনভাবে লুক্কায়িত ছিল যা সাধারণ উপগ্রহ চিত্রে সহজে ধরা পড়ে না, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তেহরান ও তাদের মিত্রদের কাছে এসব স্থাপনার নিখুঁত ভূগোলের সুনির্দিষ্ট ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির তুলনায় প্রথাগত দিক থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থানে থেকেও ইরান যেভাবে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, এই হামলাগুলো তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে গত সাত মাসে দশের অধিক প্রতিবেশী দেশ এবং শত শত বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্বিচার লক্ষ্যবস্তু করে লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকারগুলো জনসমক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা প্রকাশ না করলেও, অনেক ক্ষেত্রে মেরামতের জন্য কয়েক মাস থেকে বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যপথে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যুদ্ধপরিকল্পনাকে দারুণভাবে চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালির বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত ফুজাইরা বন্দরে অন্তত ১৯ বার হামলা চালানোয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিকল্প পথগুলোও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মুখেও ইরানের এই নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে তেহরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Amar Desh-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।