৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"নির্মাণকাজে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশের একটি চক্র ৩০ জন নাগরিককে রাশিয়ায় পাঠিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে 'টোপ' বা শিকার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেনসহ ১৭ জন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। জনপ্রতি সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া জাবালে নূরসহ তিনটি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত শুরু হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠায় এবং জনপ্রতি গড়ে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
- রাশিয়া পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ানো হয় এবং কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাদের ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ইউক্রেনীয় ড্রোন ও মিসাইল হামলার প্রথম দিনেই ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন এবং পঙ্গুত্ববরণকারী রাজন হোসেন চার দিন হেঁটে ক্যাম্পে ফিরে আসার পর দূতাবাসের সহায়তায় আগস্টের শেষের দিকে দেশে ফেরেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চাকরির মিথ্যা আশ্বাসে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে ব্যবহার করার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ২১ বছর বয়সী তরুণ রাজন হোসেনসহ ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নির্মাণকাজে নিয়োগের নাম করে গত মে মাসে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সরাসরি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা বা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাদের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সম্মুখসারির যুদ্ধে পাঠানো হয়, যেখানে ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধক্ষেত্রে এই বাংলাদেশিদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশি সূত্রে জানা যায়, ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবস্থান ও আক্রমণ করার পয়েন্টগুলো শনাক্ত করার জন্য এই নিরপরাধ তরুণদের 'টোপ' বা মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ড্রোন হামলায় কোমর ও পা অবশ হয়ে যাওয়ার পর রাজন হোসেন চার দিন কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই চার কিলোমিটার পথ হেঁটে রুশ ক্যাম্পে পৌঁছান। সেখানেও তাকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে উল্টো অস্ত্র ফেলে আসার কারণে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পের এক চিকিৎসকের সহায়তায় মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে আগস্ট মাসের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী রাজন হোসেন ও তার পরিবার সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ ইউনিট 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন' (এসআরবি-১০) এই চক্রটির বিরুদ্ধে গভীর তদন্ত শুরু করেছে। এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক এবং অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামের তিনটি এজেন্সি এই মানবপাচার ও প্রতারণার সাথে জড়িত। চক্রটি প্রতিটি যুবকের কাছ থেকে গড়ে সাড়ে আট লাখ টাকা করে আদায় করেছে এবং এর সাথে 'ইগর' নামক এক রুশ নাগরিকসহ অন্তত দুজন বিদেশি ব্যক্তি জড়িত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জড়িয়ে এ ধরনের মানবপাচার ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতে তাদের বলপ্রয়োগে ব্যবহার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের সংঘটিত অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর সরকারের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি দেশের আন্তর্জাতিক সুনামও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।