লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 31 অক্টোবর 2026, 12:50 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 54 বার পঠিত
জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশি রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী এবং কওমি মাদরাসাভিত্তিক আলেমদের মধ্যকার আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। মূলত রাজনৈতিক দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এই দুই ধারার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শন মূলত মওদুদীবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা কওমি আলেমদের একটি বড় অংশের কাছে বিতর্কিত এবং তাদের নিজস্ব দেওবন্দি ধারার সাথে সাংঘর্ষিক।
  • ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে শীর্ষ নেতাদের বিচার ও দণ্ডাদেশের বিষয়টি কওমি আলেমদের সাথে তাদের বিরোধের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক কারণ।
  • কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এবং জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রভাব বিস্তারের লড়াই দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ সৃষ্টি করে আসছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী এবং কওমি মাদরাসাভিত্তিক আলেমদের মধ্যকার বিরোধ কেবল সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এর শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। জামায়াতের রাজনৈতিক ইসলাম এবং কওমি ধারার ঐতিহ্যবাহী দেওবন্দি মতাদর্শের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জামায়াত যেখানে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের এজেন্ডাকে প্রাধান্য দেয়, সেখানে কওমি আলেমদের একটি বড় অংশ মূলত দ্বীনি শিক্ষা ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এই দুই ধারার মধ্যকার আদর্শিক সংঘাত দশকের পর দশক ধরে দেশের ধর্মীয় রাজনীতিতে এক গভীর বিভাজন তৈরি করে রেখেছে।

এই বিরোধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত, যা কওমি আলেমদের একটি বড় অংশ কখনোই মেনে নিতে পারেনি। পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার ও দণ্ডাদেশের সময় কওমি আলেমদের একাংশ জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এছাড়া, মওদুদীবাদের সমালোচনা করে কওমি আলেমদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ফতোয়া ও বই প্রকাশিত হয়েছে, যা এই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের লড়াই এই বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের উত্থানের পর থেকে কওমি আলেমদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় জামায়াতের সাথে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে জামায়াত ও কওমি ঘরানার সংগঠনগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থান জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং প্রায়শই তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘটনা ঘটে থাকে।

পরিশেষে, এই দুই ধারার বিরোধ কেবল ধর্মীয় মতপার্থক্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকেও প্রভাবিত করছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে এই দুই প্রভাবশালী ধর্মীয় ধারার মধ্যে সহাবস্থান জরুরি। তবে আদর্শিক ও ঐতিহাসিক মতপার্থক্য এতই প্রকট যে, নিকট ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ