পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বেআইনিভাবে সরকারি খাস জমি দখল ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর মালিকাধীন ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর নির্মাণকাজ স্থগিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ অভিযানে এই স্থাপনার কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইন্দুরকানী উপজেলার বলাউট এলাকায় সরকারি খাস জমি জবরদখল করে ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নির্মাণ করা হচ্ছিল।
- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়।
- স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি খাস জমি দখল এবং কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই এই বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পত্তি গ্রাস করে এই রিসোর্টের অবকাঠামো গড়ে তুলছিল। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলপ্রবাহ হুমকির মুখে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করলেও এতদিন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশেষে প্রশাসনের নজরে আসার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আইন অমান্য করে সরকারি জমিতে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত পক্ষের দাখিল করা কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই দখলকৃত খাস জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই পদক্ষেপ একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রশাসনের এমন কঠোর ভূমিকার ফলে ভবিষ্যতে যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।