কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, মর্গে সংরক্ষিত ছবি দেখে নিখোঁজ মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন এক বাবা। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় শনাক্তকরণের আগেই মরদেহটি দাফন হয়ে যাওয়ায় শেষবারের মতো মেয়ের মুখ দেখার সুযোগ পাননি তিনি। জেলা প্রশাসন ও পিবিআই এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষা ও ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে শনাক্ত করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
- নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে আসা এক বাবা মর্গে সংরক্ষিত ছবি দেখে তার সন্তানকে শনাক্ত করলেও, ততক্ষণে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন সম্পন্ন হওয়ায় তিনি শেষ দেখা দেখতে পারেননি।
- জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দাফন-কাফন বাবদ ২৫,০০০ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের একটি পর্যটন রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো ১০ জনের মরদেহ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিবিড় তদন্ত ও ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে। তবে এই প্রক্রিয়ার মাঝে এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়, যখন এক বাবা মর্গে রাখা ছবি দেখে তার নিখোঁজ মেয়েকে শনাক্ত করেন। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ের ব্যবধানে মরদেহটি আগেই দাফন হয়ে যাওয়ায় তিনি শেষবারের মতো মেয়ের মুখ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো চেনার উপায় না থাকায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতদের পোশাক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ছবি তুলে রাখা হয়। নিখোঁজদের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করলে তাদের সেই ছবিগুলো দেখানো হয়। সেখানেই এক হতভাগ্য পিতা তার মেয়ের ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এবং দগ্ধ হয়ে মারা যান।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে অধিকাংশেরই পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনাক্তকৃত মরদেহগুলো যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব মরদেহ শনাক্ত করতে দেরি হয়েছে, সেগুলো আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছিল। পিবিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচয় নিশ্চিত করার পরই কেবল আইনিভাবে মরদেহ হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।