পণ্য পুনরায় বিক্রি রোধ ও জালিয়াতি ঠেকাতে আগামী ১লা নভেম্বর থেকে জাপানের শুল্কমুক্ত কেনাকাটার নীতিতে পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়মে পর্যটকদের প্রথমে কর পরিশোধ করতে হবে এবং বিমান বা সমুদ্রবন্দরে মেশিন ও পাসপোর্ট স্ক্যান করে নগদ বা ক্রেডিট কার্ডে সেই কর ফেরত নিতে হবে। এছাড়া ভোগ্যপণ্যের ৫ লাখ ইয়েনের ক্রয়ের সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী ১লা নভেম্বর থেকে জাপানে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন কর ফেরত ব্যবস্থায় পর্যটকদের দেশত্যাগের সময় বিমান ও সমুদ্রবন্দরের নির্ধারিত মেশিনে পাসপোর্ট স্ক্যান করে নগদ বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে করের অর্থ ফেরত নিতে হবে।
- নতুন এই নীতির ফলে অ্যালকোহল ও প্রসাধনীর মতো ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দৈনিক ৫,০০,০০০ ইয়েন বা প্রায় ৩,২০০ মার্কিন ডলার ক্রয়ের সীমা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পুনঃবিক্রয় রোধের বিশেষ মোড়কের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে।
- জাপান ডিউটি-ফ্রি শপস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং মাতসুয়া কোং-এর প্রধান মাসাকি আকিতা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন জালিয়াতিপূর্ণ কেনাকাটা প্রতিরোধে খুচরা বিক্রেতাদের আইনি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া লাভজনক করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিদেশি পর্যটকদের কেনাকাটায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং জালিয়াতি রোধে জাপান সরকার শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি) কেনাকাটার নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগামী ১লা নভেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নিয়মের আওতায় পর্যটকরা আর সরাসরি দোকান থেকে শুল্কমুক্ত মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন না। পরিবর্তে, তাদের প্রথমে ভোগের ওপর নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে এবং দেশ ত্যাগের সময় বিমান বা সমুদ্রবন্দরে নির্দিষ্ট কর ফেরত নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের বন্দরগুলোতে স্থাপিত বিশেষ মেশিনে পাসপোর্ট স্ক্যান করতে হবে এবং যাচাইকরণের অংশ হিসেবে অনেক সময় কেনা পণ্যগুলো প্রদর্শন করতে হতে পারে।
পূর্বে প্রচলিত ব্যবস্থায় পর্যটকরা দোকান থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতেন এবং ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ ইয়েন (প্রায় ৩,২০০ মার্কিন ডলার) ক্রয়ের সীমা নির্ধারিত ছিল। নতুন নীতিমালায় এই ক্রয়ের সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পুনঃবিক্রয় রোধে ব্যবহৃত বিশেষ মোড়কের ঝামেলাও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের কেনাকাটার নিয়মকানুন আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে। তবে বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য দীর্ঘ লাইন ও ভিড় এড়াতে প্রধান বিমানবন্দরগুলো ইতোমধ্যে স্মার্টফোনভিত্তিক চেক-ইন পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে ২২টি নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে এবং লাগেজ পরীক্ষার জন্য আলাদা স্থান বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এই নীতি পরিবর্তনের ফলে জাপানি খুচরা বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাপান ডিউটি-ফ্রি শপস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং মাতসুয়া কোং-এর প্রধান নির্বাহী মাসাকি আকিতা এই পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এটি অসাধু উপায়ে পণ্য পুনঃবিক্রি ও জালিয়াতি রোধে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর থেকে আইনি দায়ভার কমাবে। তবে কিছু খুচরা ব্যবসায়ীর আশঙ্কা, করের টাকা পরিশোধ করে পণ্য কেনার এই জটিলতা পর্যটকদের বাড়তি কেনাকাটা থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের ট্যুরিজম খাতের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে কর ফাঁকি রোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল স্ক্যানিং ব্যবস্থার প্রবর্তন আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলবে, যা সামগ্রিক পর্যটন অর্থনীতিকে আরও সুসংহত করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।