রিলায়েন্স গোষ্ঠীর জিও প্ল্যাটফর্মসের ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার আইপিওতে মোট ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার বিড জমা পড়েছে। তিন দিনের সাবস্ক্রিপশন পর্বে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা হয়, যা ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক নতুন রেকর্ড। বিডিং শুরুর মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে ইস্যুটি সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে শেষ পর্যন্ত মোট ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিওর মোট ইস্যু সাইজ ছিল ৩০,২১৩ কোটি টাকা এবং এতে ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে, যা ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে প্রথমবার এক কোটির গণ্ডি পেরিয়েছে।
- যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা কিউআইবি (QIB) শ্রেণিতে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিড জমা পড়ে এবং এই বিভাগটি মোট ৭০.৫৫ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়।
- ২১ অক্টোবর বিডিং শুরু হওয়ার মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে আইপিওটি সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে যায় এবং তিন দিনের বিডিং শেষে সামগ্রিক সাবস্ক্রিপশনের হার দাঁড়ায় ২২.১৯ গুণ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসের ঐতিহাসিক ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার এই বিশাল অঙ্কের পাবলিক অফারে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের চাহিদা সহ মোট প্রায় ৭ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার বিড জমা পড়েছে। বিডিংয়ের তিন দিনে মোট ১ কোটি ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা ভারতীয় প্রাইমারি মার্কেটের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর ফলে জিও প্ল্যাটফর্মসের এই আইপিও দেশের পুঁজিবাজারের সর্বকালের অন্যতম বৃহত্তম এবং আলোচিত আর্থিক ঘটনা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
এই আইপিও প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি ছিল অত্যন্ত নাটকীয় ও চমকপ্রদ। গত ২১ অক্টোবর বিডিং শুরু হওয়ার মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যেই আইপিওটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। প্রথম দিনেই সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ ৩.১৬ গুণের ঘরে পৌঁছায় এবং দ্বিতীয় শেষে তা বেড়ে ৫.৫৭ গুণ হয়। পরিশেষে, তিন দিনের বিডিং পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর সামগ্রিক সাবস্ক্রিপশনের হার আকাশচুম্বী হয়ে ২২.১৯ গুণে দাঁড়ায়। এর মধ্যে কেবল যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা কিউআইবি (QIB) শ্রেণিতেই প্রায় ৩ লক্ষ সংগৃহীত বিডের পরিমাণ ছিল ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই বিভাগে মোট ৭০.৫৫ গুণ সাবস্ক্রিপশন নিশ্চিত করে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি খুচরো বিনিয়োগকারী, যোগ্য রিলায়েন্স শেয়ারহোল্ডার এবং কোম্পানির কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে ২.৭২ গুণ এবং যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের সংরক্ষিত অংশে ৭.৬০ গুণ সাবস্ক্রিপশন নথিবদ্ধ হয়। নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর (NII) বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের হার ছিল ১৪ গুণ। সংস্থার অভ্যন্তরীণ কর্মীরাও পিছিয়ে থাকেননি, তাদের জন্য সংরক্ষিত বিভাগে ২.৯৩ গুণ আবেদন জমা পড়ে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই আইপিওকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিডিং পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর এখন বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে শেয়ার বরাদ্দ এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াটির দিকে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর শেয়ার বরাদ্দ চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে এবং পরবর্তীতে ২৮ অক্টোবর জিও প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে। এই আইপিওর বিপুল আকার এবং রেকর্ড ভাঙা চাহিদা ভারতীয় শেয়ার বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।