চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আসন্ন কালীপুজো উপলক্ষে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশ। রবিবার প্রকাশিত এই এসওপিতে মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান গেট এবং জরুরি নির্গমন পথ খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে বিশেষ প্রস্তুতি বৈঠকে বসবে কলকাতা পুলিশ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশের নতুন নির্দেশিকায় মণ্ডপ চত্বর কোনওভাবেই অন্ধকার না রাখার এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- চোরবাগানের ঘটনার পর প্রকাশিত এসওপি অনুযায়ী, প্রবেশ ও প্রস্থান গেট আলাদা এবং স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়।
- সোমবার আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠকে বসছে কলকাতা পুলিশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন কালীপুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বরাষ্ট্রদফতর এবং কলকাতা পুলিশ। গত সপ্তমী সন্ধ্যায় ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর চোরবাগানের মর্মান্তিক সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রবিবারের এই গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে পুজো উদ্যোক্তারাও নিজেদের প্রস্তুতিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছেন।
নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি অনুযায়ী, প্রতিটি পুজো মণ্ডপে ঢোকা ও বের হওয়ার গেট সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ভিড়ের তীব্রতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থান করাতে হবে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে যাতে কোনো বিপদের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া মণ্ডপের ভেতরের আলো পর্যাপ্ত রাখতে হবে এবং ইমার্জেন্সি এক্সিট বা জরুরি নির্গমন পথের সামনে কোনো ধরনের বাধা রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি কমিটিকে একজন করে নির্দিষ্ট ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং সিসিটিভি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক নজরদারি চালানো হবে। মাইকিংয়ের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট ও শান্তভাবে নির্দেশিকা প্রচারের কথা বলা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই গুজব বা আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে। বিদ্যুৎ বিপর্যয় মোকাবিলায় ব্যাকআপ ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি এবং পুজো উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।