অধিকাংশ বিমানের বডি প্যানেল ও ডানা সাদা হওয়ার পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কারণ। সাদা রং সূর্যের তাপ প্রতিফলিত করে কেবিন ঠান্ডা রাখে, ফাটল বা ত্রুটি সহজে চোখে ধরা পড়তে সাহায্য করে এবং পাখিদের সতর্কতা বাড়ায়। এছাড়া, অতিরিক্ত রঙের কোট না লাগায় বিমানের ওজন ও জ্বালানি খরচ কম হয় এবং মালিকানা পরিবর্তনেও সুবিধা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সাদা রং সূর্যের তাপ শোষণ না করে প্রতিফলিত করায় রানওয়েতে বা আকাশে থাকা অবস্থায় বিমানের কেবিন দ্রুত গরম হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
- বিমানের গায়ে কোনও ফাটল বা ক্র্যাক তৈরি হলে সাদা রঙের কারণে তা ইঞ্জিনিয়ারদের চোখে দ্রুত ধরা পড়ে, যা ফ্লাইট সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সাদা রঙের কারণে মাঝ আকাশে পাখিরা দূর থেকেই বিমানটি দেখতে পায়, ফলে বার্ড হিট বা পাখির সঙ্গে বিমান সংঘর্ষের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঘুরতে যাওয়া হোক কিংবা অফিসিয়াল প্রয়োজন, দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে বিমান এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক বিমানের দিকে তাকালে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য সবার চোখে পড়ে—বিমানের পুরো বডি প্যানেল ও ডানা সাদা রঙের হয়, কেবল লেজের অংশে সংস্থার লোগো বা সামান্য রঙিন ডিজাইন থাকে। মূলত বিমান প্রস্তুতকারক ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল এই সাদা রঙের ব্যবহার। এর পেছনে রয়েছে একাধিক বৈজ্ঞানিক এবং অর্থনৈতিক যুক্তি, যা বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও পরিচালন ব্যয় হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা রং তাপ শোষণ করার বদলে তা সফলভাবে প্রতিফলিত করতে পারে। দিনের পর দিন তীব্র রোদে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানগুলো যদি গাঢ় রঙের হতো, তবে সোলার রেডিয়েশনের কারণে বিমানের কেবিন দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠত, যা কুলিং সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করত। এছাড়া, বিশালাকার বিমান রং করার জন্য কয়েকশ লিটার রঙের প্রয়োজন হয়। সাদা রঙের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একাধিক কোট দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না বলে বিমানের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন কম থাকায় বিমানগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করতে হয় না, যা এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী।
নিরাপত্তার দিক থেকেও সাদা রঙের বিকল্প নেই। প্রতিবার উড্ডয়নের আগে ইঞ্জিনিয়াররা বিমানের কাঠামো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। সাদা পটভূমির কারণে বিমানের গায়ে সামান্য ফাটল, তেল বা লিক কিংবা ডেন্ট সহজে দৃশ্যমান হয়। তাছাড়া, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, পাখিরা গাঢ় রঙের তুলনায় সাদা বা উজ্জ্বল রং অনেক দূর থেকে স্পষ্ট দেখতে পায়। ফলে আকাশে চলাচলের সময় পাখির সঙ্গে বিমানের সরাসরি সংঘর্ষের বা 'বার্ড হিট'-এর মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করলেও সাদা রঙের রয়েছে বড় সুবিধা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর অনেক সময় বিমান এক এয়ারলাইন্স থেকে অন্য এয়ারলাইন্সের কাছে বিক্রি বা লিজ দেওয়া হয়। বিমানগুলোর গায়ে সাদার পরিবর্তে অন্য কোনও নির্দিষ্ট গাঢ় রং থাকলে মালিকানা বদলের সময় পুরো বিমান পুনরায় রং করতে হতো, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সব মিলিয়ে, বিমানের কার্যকারিতা, স্থায়িত্ব, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং সর্বোপরি এভিয়েশন সেফটি নিশ্চিত করতেই বিশ্বজুড়ে বিমানগুলো সাদা রঙে রাঙানো হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।