যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক স্টার্টআপ ‘মারাথন ফিউশন’ পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারদ থেকে স্থিতিশীল স্বর্ণ তৈরির যুগান্তকারী দাবি করেছে। গত ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এই পদ্ধতিতে গত বছর সার্নের গড়া রেকর্ডের তুলনায় দশ গুণ বেশি হারে স্বর্ণ উৎপাদনের কথা বলা হলেও, এর বাণিজ্যিক কার্যকারিতা ও স্বাধীন সত্যতা এখনো যাচাই করা যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ‘মারাথন ফিউশন’ গত ২১ অক্টোবর পারমাণবিক ফিউশন ও নিউক্লিয়ার ট্রান্সমিউটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পারদ থেকে স্থিতিশীল স্বর্ণ তৈরির চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেয়।
- প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তারা পারদ-১৯৮ কে উচ্চ শক্তির নিউট্রনের সংস্পর্শে এনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ পারদ-১৯৭ তৈরি করে, যা পরবর্তীতে ক্ষয় হয়ে স্থিতিশীল স্বর্ণ-১৯৭-এ রূপান্তরিত হয়।
- এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত স্বর্ণের হার এর আগে ২০২৫ সালে ইউরোপীয় গবেষণাকেন্দ্র ‘সার্ন’-এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার-এ উৎপাদিত পরিমাণের তুলনায় দশ গুণ বেশি বলে জানানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শত শত বছরের প্রাচীন অ্যালকেমি বা রসায়নশিল্পের রূপকথার মতো এবার পারদ থেকে স্থিতিশীল স্বর্ণ তৈরির অবিশ্বাস্য দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘মারাথন ফিউশন’। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি গত ২১ অক্টোবর এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, তারা পারমাণবিক ফিউশন ব্যবহার করে এই অসাধ্য সাধন করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়াটি গত বছর ইউরোপীয় গবেষণা সংস্থা ‘সার্ন’-এর গড়া রেকর্ডের চেয়ে দশ গুণ বেশি হারে স্বর্ণ উৎপাদনে সক্ষম।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয় ‘নিউক্লিয়ার ট্রান্সমিউটেশন’ বা পারমাণবিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এটি এমন একটি কৌশল, যার সাহায্যে কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াস পরিবর্তন করে একটি মৌলকে অন্য মৌলে রূপান্তর করা যায়। তারা পারদ-১৯৮-কে ফিউশন বিক্রিয়ার সময় উৎপন্ন উচ্চ শক্তির নিউট্রনের সংস্পর্শে আনে, যার ফলে পারদ-১৯৭ নামক তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা প্রাকৃতিকভাবে ক্ষয় হয়ে স্থিতিশীল স্বর্ণ-১৯৭-এ পরিণত হয়।
এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা সার্ন-এর গবেষকরা লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার-এ পরীক্ষার সময় আনুমানিক ২৯ পিকোগ্রাম স্বর্ণ উৎপাদনের কথা জানিয়েছিলেন। মারাথন ফিউশন দাবি করেছে যে, তাদের নতুন পদ্ধতিতে উৎপাদিত স্বর্ণের হার সেই বেঞ্চমার্কের তুলনায় দশ গুণ বেশি। তবে কোম্পানিটি ঠিক কী পরিমাণ স্বর্ণ উৎপাদন করেছে, এর বিশুদ্ধতা কেমন কিংবা নিষ্কাশন দক্ষতা এবং খরচের পরিমাণ কত—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি।
এই চাঞ্চল্যকর দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক bullion বাজার এবং মূল্যবান ধাতুর মূল্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও নিরপেক্ষ অডিট ছাড়া এর বাস্তবসম্মত প্রভাব নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।