লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ল্যাবে পারদ থেকে সোনা তৈরি হচ্ছে! এবার কি সত্যিই দাম অনেক কমে যাবে?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 23 অক্টোবর 2026, 12:01 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 22 বার পঠিত
ল্যাবে পারদ থেকে সোনা তৈরি হচ্ছে! এবার কি সত্যিই দাম অনেক কমে যাবে?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

আমেরিকার স্টার্টআপ সংস্থা 'ম্যারাথন ফিউশন' নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ায় পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে ২০২৫ সালে সার্ন (CERN)-এর রেকর্ডের তুলনায় ১০ গুণ বেশি সোনা উৎপাদন সম্ভব। তবে এই প্রক্রিয়াটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করা বাকি থাকায় সোনার বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ম্যারাথন ফিউশন দাবি করেছে, তাদের প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী এক গিগাওয়াট তাপশক্তি উৎপাদনক্ষম ফিউশন কেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় দুই টন সোনা উৎপাদন করা সম্ভব।
  • ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সার্ন (CERN) লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে ৮৬ বিলিয়ন সোনার নিউক্লিয়াস তৈরি করেছিল, যার মোট ভর ছিল মাত্র ২৯ পিকোগ্রাম; ম্যারাথন ফিউশন এই হারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি উৎপাদনের দাবি করছে।
  • এই প্রক্রিয়ায় মার্কারি-১৯৮ আইসোটোপকে নিউট্রন বোম্বার্ডমেন্টের মাধ্যমে মার্কারি-১৯৭-এ রূপান্তর করা হয়, যা পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমে স্থিতিশীল গোল্ড-১৯৭ বা সোনায় পরিণত হয়।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা 'ম্যারাথন ফিউশন' নিউক্লিয়ার ট্রান্সমিউটেশন প্রক্রিয়ায় পারদ থেকে সোনা তৈরির চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। সংস্থাটির দাবি, নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে উৎপন্ন উচ্চশক্তির নিউট্রন ব্যবহার করে তারা মার্কারি-১৯৮ আইসোটোপকে স্থিতিশীল গোল্ড-১৯৭-এ রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও তারা দাবি করছে যে, এই উৎপাদন হার ইউরোপের গবেষণা সংস্থা সার্ন (CERN)-এর পূর্ববর্তী রেকর্ডের তুলনায় ১০ গুণ বেশি, তবুও পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বা উৎপাদিত সোনার সঠিক পরিমাণ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মৌলের রূপান্তর অসম্ভব হলেও নিউক্লিয়ার ফিউশন বা ফিশন প্রক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসে পরিবর্তন এনে তা সম্ভব। ম্যারাথন ফিউশনের মডেল অনুযায়ী, একটি এক গিগাওয়াট ক্ষমতার ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় দুই টন সোনা উৎপাদন করা যেতে পারে। তবে এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত জটিল, কারণ এতে মার্কারি-১৯৮ আইসোটোপকে বিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়া এবং তেজস্ক্রিয় উপজাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোনো ফিউশন রিঅ্যাক্টর পৃথিবীতে নেই, ফলে এই প্রযুক্তিটি এখনও তাত্ত্বিক ও পরীক্ষাগারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ল্যাবরেটরিতে সোনা তৈরি করা আর বাণিজ্যিকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে তা বাজারে সরবরাহ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এছাড়া, ফিউশন রিঅ্যাক্টর পরিচালনার বিপুল ব্যয় এবং তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সোনার দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, তা এখনই বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুযোগ নেই। ম্যারাথন ফিউশন কেবল সোনা নয়, বরং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কপার-৬৪ ও কপার-৬৭-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরির দিকেও নজর দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারলেও, বাণিজ্যিক স্বর্ণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি এখনও দীর্ঘ গবেষণার দাবি রাখে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ