সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী শাহেদ আহমেদের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। এর আগে কর্মস্থলে যাওয়ার প্রাক্কালে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়েছিল 'কেঁদো না, বাসায় গিয়ে ফোন দেব'। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি কর্মী শাহেদ আহমেদ নিহত হন এবং তাঁর কফিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
- মৃত্যুর পূর্বে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় শাহেদ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে শেষ কথা বলেন এবং সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, 'কেঁদো না, বাসায় গিয়ে ফোন দেব'।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদির বিভিন্ন কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি হিসেবে অবস্থান করছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী শাহেদ আহমেদের মরদেহ অবশেষে দেশে এসে পৌঁছেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহটি নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে শাহেদের গ্রামের বাড়িতে এবং স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শাহেদের পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার প্রাক্কালে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিয়ে শাহেদ বলেছিলেন, 'কেঁদো না, প্রবাসে এমন হয়, আমি বাসায় গিয়ে আবার ফোন দেব।' কিন্তু সেই ফোনালাপই যে তাঁর জীবনের শেষ কথা ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তাঁর স্ত্রী ও স্বজনরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে সৌদির বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, যা প্রবাসীদের আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের নিরাপত্তা এবং প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শাহেদের মতো সাধারণ প্রবাসীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু দেশের অর্থনীতিতে রেমারেটসের জোগানদাতা পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সরকার ও জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে নিহত শাহেদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।