খুলনার রূপসা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১২ দিনে খুলনা জেলা ও মহানগরে এটি সপ্তম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গত ৩ দিনেই জেলায় ৪ জন খুন হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রূপসা উপজেলার জাবুসা ও রাজাপুর এলাকা সংলগ্ন নদী থেকে উদ্ধারকৃত দুই যুবকের মরদেহে একাধিক গুলির চিহ্ন এবং হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
- খুলনা জেলা ও মহানগর এলাকায় গত ১২ দিনের ব্যবধানে মোট ৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে শেষ ৭২ ঘণ্টায় ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
- নিহতদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে; পুলিশ ও পিবিআই (PBI) ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
খুলনার রূপসা নদী থেকে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ ও হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে রূপসা উপজেলার জাবুসা ও রাজাপুর এলাকা থেকে এই মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে রূপসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতদের শরীরে একাধিক গুলির ক্ষত এবং জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
খুলনায় গত ১২ দিনে এটি সপ্তম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, যা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিকে নির্দেশ করছে। এর আগে গত ৩ দিনে আরও ৪ জন খুন হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত যুবকদের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে হত্যা করার পর অপরাধীরা প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহ দুটি নদীতে ফেলে দিয়ে গেছে। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে পুরো জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা ও থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে এই জোড়া খুন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে টহল জোরদার করার দাবি জানানো হলেও একের পর এক খুনের ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।