অশ্রুসিক্ত নয়নে ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের। বিজয়া দশমীতে সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে লাখো মানুষের ঢল নামে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার চাদরে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় দেবী বিসর্জনের এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনে প্রায় লাখো পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।
- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ তত্ত্বাবধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
- বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অশ্রুসিক্ত নয়ন ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের। বিজয়া দশমীর দিনে কক্সবাজারের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে আনা প্রতিমা নিয়ে হাজির হন লাখো পুণ্যার্থী ও উৎসবপ্রেমী মানুষ। সৈকতের বালিয়ারিতে ভক্তদের উলুধ্বনি, শাঁখ ও করমালের শব্দে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গত কয়েক দিন ধরে চলা মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর নানা মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবীকে বিদায় জানানোর এই পর্বে অংশ নেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সৈকত এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বিক শৃঙ্খলায় নিয়োজিত ছিল।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ জানান, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে পেরেছেন। প্রশাসন ও স্থানীয় সুশীল সমাজের সহযোগিতায় এবারের উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের এই বিশাল সমাগম শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরাও এই বিসর্জনযাত্রার সাক্ষী হন। মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা, মিষ্টি মুখ এবং দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় জানানোর এই ক্ষণ আগামী বছরের আগমনী বার্তার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।