সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের সাতটি জটিল রোগে আক্রান্তদের এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ, থ্যালাসেমিয়া এবং স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত রোগীরা এই অনুদান পাবেন। সরকারি সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে চলতি অর্থবছর এই সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ, থ্যালাসেমিয়া এবং স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিসহ মোট সাতটি জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই এককালীন ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন।
- আগ্রহী রোগীদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (www.mis.ssd.gov.bd) অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং সাথে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা লাঘব করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের সাতটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত দুস্থ ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ, থ্যালাসেমিয়া ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি রোগীর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল এসব রোগের চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং তার বার্ষিক আয় সরকারের নির্ধারিত সীমার নিচে থাকতে হবে। জটিল এসব রোগের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তাই সরকারি এই এককালীন সহায়তা রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এবং ওষুধ ক্রয়ে আংশিক স্বস্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। রোগীদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) পোর্টালে অনলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সাথে সরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপপত্র, রোগ শনাক্তকরণের মেডিকেল রিপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দেওয়া নাগরিক সনদ সংযুক্ত করতে হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর উপযুক্ত প্রার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অনুদানের টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যখাত ও সমাজকল্যাণ বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে অনুদানের পরিধি ও বাজেট আরও বাড়ানো হলে দেশের আরও বেশি সংখ্যক জটিল রোগী এই সেবার আওতায় উপকৃত হতে পারবেন, যা সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।