কলকাতা পৌরসভা বা কেএমসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শাসকদল তৃণমূলে প্রায় ৭০টি ওয়ার্ডে উপযুক্ত মহিলা ও প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রার্থী খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং অনেকের অনীহার সুযোগ নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি) নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭০টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের উপযুক্ত ও ইচ্ছুক মুখ পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
- তৃণমূলের একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর দলীয় নির্দেশ ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে বিরোধী দল বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হওয়ার জন্য যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
- দলের একাংশের মধ্যে বামেদের সঙ্গে জোট কিংবা আসন সমঝোতা নিয়ে প্রকাশ্যেই নানা মতপার্থক্য ও আলোচনা শুরু হয়েছে, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে প্রার্থী চয়ন নিয়ে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে নেতৃত্বকে। বিশেষ করে প্রায় ৭০টি ওয়ার্ডে উপযুক্ত মহিলা মুখ এবং বিগত বোর্ডের জনপ্রিয় প্রাক্তন কাউন্সিলরদের দলে ধরে রাখা এবং তাদের নির্বাচনে লড়াতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে বেগ পেতে হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নির্দেশ অমান্য করার প্রবণতার কারণে তৃণমূল শিবির এই জটিলতার মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তৃণমূলের অন্দরে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলের একটি অংশ আসন্ন নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার পক্ষে মত দিলেও, অন্য একটি অংশ এককভাবে লড়ার পক্ষেই জোরালো অবস্থান নিয়েছে। প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় এই বিষয়ে দলের অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে মুখপাত্র কুণাল ঘোষ একে সময়ের দাবি বলে অভিহিত করেছেন। তবে সর্বেসর্বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনড় থাকলেও স্থানীয় স্তরে প্রার্থী বাছাইয়ে এই মতানৈক্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং প্রার্থী সংকটের পূর্ণ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। শাসকদলের ঘরোয়া কোন্দলে বিরক্ত এবং দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এমন শতাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলরের একটি অংশ বিজেপির টিকিটে লড়ার জন্য গোপনে যোগাযোগ রাখছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। এতে করে পুরভোটের প্রাক্কালে তৃণমূলের দুর্গে বড় ধরণের ভাঙন ধরার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
এই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু কলকাতার স্থানীয় নির্বাচনেই প্রভাব ফেলবে না, বরং এটি রাজ্য রাজনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদী সমীকরণ তৈরি করতে পারে। শাসকদল যদি দ্রুত তাদের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দমন করে ৭০টি বিতর্কিত ওয়ার্ডে শক্তিশালী প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে না পারে, তবে তা বিরোধীদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বড় সুবিধা করে দেবে। সমগ্র পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।