লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ক্রেতা সংকটে আবাসন ব্যবসা, এক বছরে ফ্ল্যাট বিক্রি কমেছে ৩৫ শতাংশ (ভিডিও)

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 07 নভেম্বর 2026, 12:24 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 68 বার পঠিত
ক্রেতা সংকটে আবাসন ব্যবসা, এক বছরে ফ্ল্যাট বিক্রি কমেছে ৩৫ শতাংশ (ভিডিও)
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

তীব্র ক্রেতা সংকট ও নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের আবাসন ব্যবসা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে। গত এক বছরে ফ্ল্যাট বিক্রি কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। নির্মাণ ব্যয় আকাশছোঁয়া হওয়ায় এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ফ্ল্যাট ক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সিমেন্টসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট শিল্পেও, যার ফলে সার্বিক অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • গত এক বছরের ব্যবধানে দেশের রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতে ফ্ল্যাট বিক্রি কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা খাতটিকে মারাত্মক মন্দার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
  • রড, সিমেন্ট ও ইটসহ নির্মাণ উপকরণের আকাশছোঁয়া দাম এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণে ডেভেলপার ও ক্রেতারা উভয়েই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
  • আবাসন খাতের এই দীর্ঘস্থায়ী মন্দার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিমেন্ট ও ইস্পাত শিল্পে, ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতেও কাজের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

তীব্র ক্রেতা সংকট এবং নির্মাণ উপকরণের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাতের ব্যবসা গভীর সংকটে পড়েছে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরের ব্যবধানে দেশে ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার আগ্রহ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মন্দার পেছনে প্রধানত দায়ী করা হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে। রড, সিমেন্ট, ইট, বালু এবং টাইলসের দাম গত কয়েক দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের নির্মাণ ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গেছে। এর ফলে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রকল্প হাতে নিতে সাহস পাচ্ছে না। অন্যদিকে, সমাপ্ত প্রকল্পগুলোর অবিক্রীত ফ্ল্যাটগুলো ধরে রাখতে গিয়ে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধের চাপে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

আবাসন খাতের এই ধীরগতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যান্য সহযোগী শিল্পেও। বিশেষ করে সিমেন্ট ও ইস্পাত শিল্পে বড় ধরনের মন্দাবস্থা দেখা দিয়েছে, কারণ এই খাতগুলোর মূল গ্রাহকই হলো আবাসন ও নির্মাণ খাতের উদ্যোক্তারা। ডেভেলপারদের বিক্রি কমে যাওয়ায় কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতিগত সহায়তা, সুদহার সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং নির্মাণ সামগ্রীর সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে এই খাতের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসন খাত দেশের জিডিপিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে পুরো নির্মাণ শিল্প ও ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তাই এই খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদী গৃহঋণ চালুর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ