কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারে কর্মসংস্থান ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশেষজ্ঞরা। এআইকে কেবল ব্যয় সংকোচনের হাতিয়ার হিসেবে না দেখে, এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় কৌশলের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
- বিশেষজ্ঞরা সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজস্ব এআই অবকাঠামো বা 'সভরিন এআই' (Sovereign AI) গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন, যা জাতীয় তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
- এআই ব্যবহারের ফলে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে সম্ভাব্য বেকারত্ব রোধে প্রযুক্তিকে কেবল ব্যয় কমানোর মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনশীলতা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় উত্থান বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে। তবে এই প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রপ্রধানসহ নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এআইকে কেবল ব্যয় সংকোচনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে তা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ব্যবহারের ফলে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ডিপফেক, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং স্বয়ংক্রিয় ম্যালওয়্যার আক্রমণের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নিজস্ব এআই অবকাঠামো বা 'সভরিন এআই' গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া, এআই ব্যবহারের নৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এআইয়ের কারণে যেন বেকারত্ব না বাড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এআইয়ের সঠিক প্রয়োগে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলেও শ্রমবাজারের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ডেটা এন্ট্রি, কাস্টমার সাপোর্ট এবং সাধারণ প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কেবল ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবক হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারলে এআইয়ের ঝুঁকি কমিয়ে এর সুফল ভোগ করা সম্ভব। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগই পারে এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে গড়ে তুলতে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।