লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ
ব্রেকিং জাতীয়

ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 26 অক্টোবর 2026, 03:18 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 80 বার পঠিত
ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কর্তৃক ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বিতর্কিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি আইজিপির এই বক্তব্যকে সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী উল্লেখ করে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন। এই বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতিকে উসকে দেবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন আইজিপির বক্তব্যকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এমন মন্তব্যের পর তিনি পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।
  • জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইজিপির অপসারণ দাবি করে জানিয়েছে, এই বক্তব্য জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী ও স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
  • সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের আশ্রয় লাভ ও জীবন রক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকার, যা আইজিপির বক্তব্যে সরাসরি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আইনজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কর্তৃক ‘সরকার বললে ক্রসফায়ার চালানো হবে’ মর্মে প্রদত্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ। এই বক্তব্যকে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। আইজিপির মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মুখে এমন কথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছাবে এবং তাদের বেআইনি কাজে উৎসাহিত করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের আমলে ‘বেনজীর মডেল’ অনুসরণের যে অভিযোগ ছিল, বর্তমান আইজিপির বক্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আইজিপির বক্তব্য এই সাংবিধানিক রক্ষাকবচকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। জাতীয় নাগরিক কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, যারা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, তারা কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি মেনে নেবে না। এই বক্তব্য জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করার শামিল।

এই বিতর্কের ফলে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে বের করে আনতে হলে আইজিপিকে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে অথবা পদত্যাগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের বক্তব্যের কোনো স্থান নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ