পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলামের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আইজিপি দাবি করেন, মাদক থেকে সুবিধা না পেয়ে সাংবাদিকরা পুলিশের সমালোচনা করছেন। এই বক্তব্যকে পেশাদারিত্বের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দিয়েছে ডিআরইউ। পুলিশ সদর দপ্তর পরবর্তীতে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আইজিপির বক্তব্যকে ‘অপেশাদার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আলটিমেটাম দিয়েছে।
- আইজিপি ময়নুল ইসলাম এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, সাংবাদিকরা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা না পেয়ে পুলিশের অকার্যকারিতা নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছেন।
- পুলিশ সদর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আইজিপির বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়, বরং অপরাধীদের সাথে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করতেই এমন মন্তব্য করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলামের ‘ক্রসফায়ার’ এবং সাংবাদিকদের মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্য করেন যে, সাংবাদিকরা যখন মাদক থেকে টাকা পান না, তখনই তারা পুলিশ অকার্যকর বলে সংবাদ প্রকাশ করেন। এই বক্তব্যকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদাহানি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইজিপির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এক জরুরি বিবৃতিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আইজিপিকে তার এই ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির প্রচ্ছন্ন সমর্থনমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের উসকানি হিসেবে অভিহিত করেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আইজিপির বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি মূলত অপরাধীদের সাথে কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশের কথা বলতে চেয়েছেন, যা সামগ্রিকভাবে সাংবাদিক সমাজের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি সাংবাদিক সংগঠনগুলো, তারা সরাসরি ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে অনড় রয়েছে।
এই বিতর্ক পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পেশাদার সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া ঢালাওভাবে সাংবাদিকদের অভিযুক্ত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে রুদ্ধ করার নামান্তর, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।