গাজীপুরের গাছায় দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসায় আট বছরের এক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম এবং ঘটনা ধামাচাপ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে পরিচালক মোহাম্মদ মিজানকে গ্রেফতার করেছে গাছা থানা পুলিশ। গত ২৩ অক্টোবর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠান। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকার দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার আবাসিক বোর্ডিংয়ের তৃতীয় শ্রেণির ৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে।
- অভিযুক্ত শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম গত ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতে মাদ্রাসার স্টোর রুমে নিয়ে শিশুটিকে বলাৎকার করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেন।
- ঘটনা ধামাচাপ দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান ও অপর আসামি আব্দুল কুদ্দুস শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ প্রধান অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর ডেঙ্গুর আলী রোড এলাকার দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসায় আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩) এবং ঘটনাটি ধামাচাপ দেওয়ার চেষ্টা করায় মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে গাছা থানা পুলিশ। গত ২৩ অক্টোবর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার আবাসিক বোর্ডিংয়ে থেকে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করত। গত ৭ অক্টোবর শিশুটিকে মাদ্রাসায় রেখে আসেন তার পরিবার। পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে শিশুটি বাসায় খাবার খেতে গেলে গোসলের সময় পায়ুপথে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানায়। একপর্যায়ে শিশুটি তার পরিবারকে জানায় যে, গত ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম তাকে জোরপূর্বক স্টোর রুমে নিয়ে একাধিকবার সমকামিতা ও শারীরিক নির্যাতন চালান। ঘটনা কাউকে জানালে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসায় গিয়ে পরিচালক মোহাম্মদ মিজানকে জানালে তিনি কোনো আইনি ব্যবস্থা বা বিচার না করে উল্টো টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি অভিযুক্ত শিক্ষককে কৌশলে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালান। পরবর্তীতে শিশুটির পরিবার গাছা থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে একই মাদ্রাসার অপর এক ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকেও শিক্ষক অলিউল্লাহ কর্তৃক একইভাবে নিপীড়নের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রধান আসামি শিক্ষক অলিউল্লাহ ও পরিচালক মিজানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর পলাতক আসামি আব্দুল কুদ্দুস শেখকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।