যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মাগুরা জেলায় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে। জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যার মধ্যে সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয় টানা দ্বিতীয়বারের মতো শতভাগ ফেলের লজ্জায় পড়েছে। সার্বিক ফলাফলে যশোর বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে মাগুরার অবস্থান নবম।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মাগুরা জেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি টানা দুই বছরে মোট ২৭ জন পরীক্ষার্থী হারিয়ে শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে।
- মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া দুজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে না পারায় জেলার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল দুটিতে।
- যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১০ জেলার মধ্যে মাগুরায় পাসের হার নেমে এসেছে ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মাগুরা জেলায় চরম বিপর্যয়কর ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এছাড়া মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া দুজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাসের মুখ দেখেননি।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয় থেকে আটজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও সবাই ফেল করেছিলেন। ফলে টানা দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় অভিভাবক ও স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পল্লব কুমার দের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সার্বিক এই ফলাফলে মাগুরা জেলা যশোর বোর্ডের ১০টি জেলার মধ্যে নবম অবস্থানে রয়েছে।
মাগুরা জেলায় চলতি বছর এইচএসসিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা গত বছরের ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশের তুলনায় সামান্য কম। যশোর বোর্ডের অধীনে এবার শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় মাগুরার এই দুটি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। তবে বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পুরো বোর্ড জুড়ে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গতবারের ২০টি থেকে কমে এবার ১৬টিতে নেমে এসেছে।
মাগুরা সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা দুই বছর এমন ফল বিপর্যয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন যে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি নবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।