আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করেছে। কারিগরি বিশ্লেষণে বড় ধরনের দরপতনের ইঙ্গিত মিলেছে। গত বছরের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়লেও, বর্তমানে ডলার ইনডেক্স বা ডিএক্সওয়াই ২১ দিনের মুভিং এভারেজের নিচে নেমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সূচকটি ৯৯ দশমিক ৩৬ পয়েন্টের নিচে নামলে দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারায় রূপ নেবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ডলারের মান সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ডলারের সূচক ২১ দিনের মুভিং এভারেজের নিচে নেমে গেছে এবং এটি ১০০ দশমিক ৭ পয়েন্টের সাপোর্ট স্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
- বিশ্লেষকদের ট্রেন্ড চ্যানেল অনুযায়ী, ডলার ইনডেক্স ৯৯ দশমিক ৩৬ পয়েন্টের নিচে নামলে তা দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারায় রূপ নেবে, যা বাতিল করতে হলে সূচকটিকে ১০২ দশমিক ৯৫ পয়েন্টের ওপরে উঠতে হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক শক্তিশালী অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ট্রেজারি বন্ড ইল্ড বৃদ্ধির প্রভাবে চলতি বছর নিজের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল ডলারের মান। তবে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মুদ্রাটির গতি কমতে শুরু করেছে এবং এটি বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে কারিগরি বা টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ।
ছয়টি প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন মুদ্রার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে বিশ্লেষকরা সাধারণত ডলার ইনডেক্স বা ডিএক্সওয়াই ব্যবহার করেন। বাজারের গতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে তা বুঝতে তারা মোমেন্টাম ও অস্থিরতা পরিমাপক বিভিন্ন সূচক খতিয়ে দেখছেন। এর মধ্যে গতি পরিমাপক ‘রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইনডেক্স’ (আরএসআই) অক্টোবরের শুরু থেকেই নিম্নমুখী এবং এটি ৫০-এর নিচে নামার পথে রয়েছে। সাধারণত এই সূচক ৫০-এর নিচে নামলে বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতাদের আধিপত্য বেশি বলে ধরা হয়। পাশাপাশি দৈনিক ওঠানামা পরিমাপের সূচক ‘অ্যাভারেজ ট্রু রেঞ্জ’ (এটিআর) সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিক্রেতাদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দেয়।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি)-এর তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ দিকে ডলারের সূচক ২১ দিনের মুভিং এভারেজের নিচে নেমে গেছে। এই দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকলে তা ৫৫ ও ১০০ দিনের মুভিং এভারেজ বা ১০০ দশমিক ৭ পয়েন্টের সাপোর্ট স্তরের দিকে এগোবে। দরপতন আরও দীর্ঘায়িত হলে তা ২০০ দিনের মুভিং এভারেজের কাছাকাছি ৯৯ দশমিক ৭ পয়েন্ট এবং পরবর্তীতে ২০ আগস্টের সর্বনিম্ন স্তর ৯৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকতে পারে।
বিশ্লেষকদের ট্রেন্ড চ্যানেল অনুযায়ী, চলতি বছর ঊর্ধ্বমুখী থাকা ডলার ইনডেক্স যদি ৯৯ দশমিক ৩৬ পয়েন্টের নিচে নামে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারায় রূপ নেবে। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা বাতিল হতে হলে সূচকটিকে আবার অক্টোবরের সর্বোচ্চ স্তর ১০২ দশমিক ৯৫ পয়েন্টের ওপরে উঠতে হবে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।