রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজির ভরপুর সরবরাহের কারণে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও মুলার দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কিছুটা হ্রাস পেলেও ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংস আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহের ফলে বাজারদর নিম্নমুখী, যেখানে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- হিলি বাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে এবং ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন প্রতি দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
- সবজির বাজারে স্বস্তি মিললেও মাছ ও মাংসের বাজার চড়া রয়েছে, যেখানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি কাঁচাবাজারে শীতকালীন শাকসবজির পর্যাপ্ত সরবরাহের ফলে স্বস্তি মিলতে শুরু করেছে সাধারণ ভোক্তাদের মনে। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় শিম, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের শীতের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের এই সময়ে নতুন সবজি পুরোদমে বাজারে আসায় দামের এই ইতিবাচক পতন দেখা গেছে।
সবজির পাশাপাশি ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি লক্ষ করা গেছে। ফার্মের মুরগির বাদামী ডিমের ডজন প্রতি দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কমে এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া হিলি সহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর ও স্থানীয় বাজারে পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজের ঝাঁজও কিছুটা কমেছে, যেখানে কেজিপ্রতি ৫ টাকা পর্যন্ত দাম হ্রাস পেয়েছে। তবে শাকসবজি ও ডিমের দাম কমলেও মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তির কোনো খবর নেই।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রুই, কাতলা ও তেলাপিয়া সহ বেশিরভাগ চাষের মাছ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর খরচের চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গোখাদ্যের উচ্চমূল্য ও পরিবহন খরচের কারণে মাছ-মাংসের দাম কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শীতকালীন সবজির পূর্ণাঙ্গ মৌসুম শুরু হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহ শাকসবজির বাজার সাধারণ মানুষের নাগালেই থাকবে। তবে মাছ ও মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার আরও উন্নতির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।