গবেষণা মাঠ রক্ষার দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য নির্ধারিত মাটি পরীক্ষা ও সয়েল টেস্টিং কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। গণপূর্ত বিভাগের সাইনবোর্ড খুলে ফেলে ও নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে দিয়ে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ও মাঠে অবস্থানের ফলে ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের জন্য চলমান সয়েল টেস্টিং বা মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।
- আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাঁটানো সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলেন এবং নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি জোরপূর্বক মাঠ থেকে সরিয়ে নেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের একমাত্র এই মাঠ রক্ষা করতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা তাঁদের একমাত্র গবেষণা মাঠ রক্ষার দাবিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্টিং) কাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নির্মাণস্থলে হানা দেন এবং সেখানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের টানানো সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন। এ সময় মাঠের ভেতরে রাখা ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা ক্যাম্পাসের ভেতরে নতুন সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাঁদের দাবি, এই গবেষণা মাঠটি কৃষি বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের ফলিত গবেষণা, শস্য উৎপাদন এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠটি হারিয়ে গেলে কৃষি শিক্ষায় অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাসের পরেও কোনো সুরাহা না মেলায় শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে মাঠে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও গবেষকবৃন্দ। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গবেষণা মাঠ অক্ষুণ্ণ রাখার লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক বা পরীক্ষামূলক কাজ এই মাঠে চালাতে দেওয়া হবে না।
এই ঘটনার ফলে সরকারের সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষি শিক্ষার মান রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণার পরিবেশ বজায় রাখতে এই সংকট নিরসনে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।