শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরসহ দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিহিত পূজা ও বিশেষ যজ্ঞ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত ছিল চারপাশ। অশুভ শক্তির বিনাশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় যজ্ঞের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয় মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। আজ উৎসবের শেষ পূর্ণ দিন হওয়ায় ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আগামীকাল বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে মহানবমীর সকালে বিহিত পূজার পর অশুভ বিনাশের প্রার্থনায় বিশেষ যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত ভক্ত অংশ নেন।
- এ বছর সারাদেশে মোট ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরে রয়েছে ২৫২টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপ।
- মহানবমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা এবং ধুনুচি নাচের বিশেষ আয়োজন করা হয়, যা উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আমেজকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ ও বিদায়ের সুর। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে সকাল থেকেই শুরু হয় নবমী বিহিত পূজা। ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন। বিশেষ করে যজ্ঞের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন মণ্ডপে আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়, যা ভক্তদের মাঝে এক বিশেষ ভাবগাম্ভীর্য সৃষ্টি করে।
ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, মহানবমীর দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার চূড়ান্ত শক্তি সঞ্চয় করেছিলেন। এই দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে বিশেষ ভোগ ও নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। সিদ্ধেশ্বরী ছাড়াও রমনা কালী মন্দির, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এবং বনানী পূজামণ্ডপে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ঢাকার বাইরে শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলাতেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় মহানবমী পালিত হয়েছে। প্রকৃতির মাঝে ঈশ্বরকে খোঁজার যে প্রাচীন দর্শন, তা এই পূজার প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ, র্যাব এবং আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলও সক্রিয় ছিল। পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর উৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অনেক মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ধুনুচি নাচের তালে মেতে ওঠেন তরুণ-তরুণীরা।
মহানবমী শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হবে বিজয়া দশমীর প্রস্তুতি। আগামীকাল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা। বিসর্জনের বিষাদ থাকলেও ভক্তদের মনে রয়েছে আগামী বছর দেবীকে পুনরায় বরণ করে নেওয়ার প্রতীক্ষা। এই উৎসব কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, বরং এটি বাঙালির সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।