যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বাধার অভিযোগ উঠেছে। ৮৭ বছর বয়সি এই মুক্তিযোদ্ধাকে গত শনিবার কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় পিরোজপুরে দাফন করা হয়। দাফন আটকে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় চিকিৎসক ও গবেষক তাসনিম জারা ঢাকাসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ৮৭ বছর বয়সি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী মানিক পশারী গত শনিবার মারা যান এবং গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় তাকে দাফন করা হয়।
- স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পিরোজপুরে তার দাফন হতে দেওয়া হবে না বলে মাইকে ঘোষণা দেন এবং মিছিল করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
- চিকিৎসক ও তরুণ গবেষক তাসনিম জারা তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মৃত মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া চরম অন্যায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া ও মামলার বাদী এবং তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ৮৭ বছর বয়সি এই বীর মুক্তিযোদ্ধা গত শনিবার সকালে মৃত্যুবরণ করার পর তার পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করে। স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয় যে, পিরোজপুরে তাকে দাফন করতে দেওয়া হবে না। শেষ পর্যন্ত গত শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন সচেতন নাগরিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক তাসনিম জারা তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা নিজের পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকতে পারবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দলটির নেতাকর্মী কীভাবে নেন? একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধিতার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির সাথে সাথে বিরোধী দলে থাকাকালীন নিজেদের অধিকারের কথা ভুলে গিয়ে তারা এখন অন্যদের ওপর খবরদারি করছেন।
মৃত মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মূলধারার গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং ভিন্নমতের অনুসারীদের হেনস্থা করার প্রবণতা নিয়ে বিশিষ্টজনেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অন্তিম যাত্রায় এমন অমানবিক আচরণ ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনা কেবল আইনের শাসনকেই চ্যালেঞ্জ করে না, বরং দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেন মৃত ব্যক্তির পরিবারকে দীর্ঘ সময় ধরে উৎকণ্ঠায় কাটাতে হলো এবং পুলিশ কেন আরও আগে কঠোর অবস্থান নিতে পারেনি, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা বাড়িয়ে তোলে, যা প্রতিরোধে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।