ম্যান মেড বন্যা, সমন্বয়ের অভাব ! পালাবদলেও জল ছাড়ার একই ছবিতে নয়া তত্ত্ব 'ট্রাবল ইঞ্জিন'
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ডিভিসি এবং দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে রাতের অন্ধকারে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে আগে 'ম্যান মেড বন্যা' বা 'সমন্বয়ের অভাব' বলা হলেও বর্তমানে বিরোধীরা একে 'ট্রাবল ইঞ্জিন সরকার'-এর ব্যর্থতা বলে কটাক্ষ করেছে। দামোদর নদে ড্রেজিং না হওয়া এবং পলি জমার কারণে এই দুর্ভোগ প্রতি বছর ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডিভিসি মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে ১ লক্ষ ৮ হাজার কিউসেক এবং দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় বাংলায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- দামোদর নদের পলি সংস্কার বা ড্রেজিং না হওয়া এবং অবৈজ্ঞানিক উপায়ে বালি তোলার কারণে নদীর জল ধারণ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমেছে।
- জল ছাড়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে; বিরোধীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে 'ট্রাবল ইঞ্জিন সরকার' বলে কটাক্ষ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ডিভিসি এবং দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে রাতের অন্ধকারে বিপুল পরিমাণে জল ছাড়া হয়েছে, যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের অন্তত চার জেলায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডিভিসি মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ১ লক্ষ ৮ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় দুর্গাপুর ব্যারেজে জলের চাপ বাড়ে। ফলে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে বাধ্য হয় রাজ্য সেচ দফতর।
অতীতে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একে 'ম্যান মেড বন্যা' আখ্যা দিতেন এবং তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী 'রাজ্যের সমন্বয়ের অভাব' বলে অভিযোগ করতেন। কিন্তু বর্তমানে বিরোধীদের কটাক্ষ, তথাকথিত 'ডাবল ইঞ্জিন সরকার' এখন মানুষের কাছে 'ট্রাবল ইঞ্জিন সরকারে' পরিণত হয়েছে। সিপিআইএম ও কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি না করে এর স্থায়ী সমাধান করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্ভোগের মূল কারণ হলো দামোদরে দীর্ঘদিন ড্রেজিং বা পলি সংস্কার না হওয়া। পলি জমার কারণে দামোদরের জল ধারণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এছাড়াও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে বালি উত্তোলন এবং নদীর চরে জনবসতি গড়ে ওঠার কারণে নদী তার নিজস্ব গতিপথ হারিয়েছে। দুর্গাপুরের সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় মজুমদার জানান, তাঁরা নিয়ম মেনেই জল ছাড়েন, তবে রাতের অন্ধকারে জল ছাড়লে বন্যা দুর্গতদের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ডিভিসি কর্তৃপক্ষের পলি সংস্কারে উদাসীনতা এবং দীর্ঘদিনের এই সমস্যা জিইয়ে রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ETV Bharat-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।