ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ মাত্র ১.৮৯ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চামড়া, পাট, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ বেশ কয়েকটি খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি: গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে; মোট বাণিজ্য প্রায় ১২.৭৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ১.৮৯ বিলিয়ন ডলার।
- রপ্তানি বহুমুখীকরণ: বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোর রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে।
- বেসরকারি খাতের আমদানি: বাণিজ্যমন্ত্রী জানান যে সরকার নয়, বরং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই তুলনামূলক কম মূল্য এবং সহজলভ্যতার কারণে ভারত থেকে বেশি পণ্য আমদানি করে থাকেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন যে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ প্রায় পৌনে ১৩ (১২.৭৫) বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ১.৮৯ বিলিয়ন ডলার, আর বাকি বিশাল অংশই ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারত এবং চীনের সঙ্গেই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বিষয়টি কেবল দেশভিত্তিক নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঘাটতি কমাতে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো কয়েকটি খাতকে চিহ্নিত করেছে। এই খাতগুলোর রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে যেমন কিছু বাধা রয়েছে, তেমনি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তবে সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে অবকাঠামো উন্নয়নে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যেটিতে বাংলাদেশ সরকারও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারত থেকে এত বেশি আমদানির কারণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার নিজে পণ্য আমদানি করে না। বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ের সুবিধার্থে এবং প্রতিযোগিতামূলক কম মূল্যের কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করতে বেশি উদ্যোগী হন।
এছাড়া, বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে গত পাঁচ বছরের বাণিজ্য ঘাটতির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৬৯ বিলিয়নে। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭.৭১ বিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭.৪৩ বিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৭.৮৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bdnews24.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।