শিক্ষক নিবন্ধন ও এমপিও সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নির্বাহী আদেশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি এনটিআরসিএর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা আনা, ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৭ সালের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো এবং অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের জটিলতা নিরসনে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১ম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের বৈষম্য নিরসন করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি।
- শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যেই ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, জাল সনদ রোধ এবং শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের আর্থিক জটিলতা নিরসনে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ছাড় নিয়ে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এসেছে সংসদীয় কমিটি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশ জারির জোর দাবি ও সুপারিশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদী বঞ্চনার শিকার একটি বড় অংশের নিবন্ধনধারী শিক্ষক চাকরি পাওয়ার আলোর মুখ দেখতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে এনটিআরসিএ এর কার্যক্রম, সনদ বাণিজ্য এবং ভুয়া শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ৬৩ শতাংশের বেশি শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এনটিআরসিএর বর্তমান কার্যক্রমে নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছেন। এসব অনিয়ম রোধে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করতে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতেও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও যথাসময়ে পাঠদান নিশ্চিত করতে আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করার তাগিদ রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডিসেম্বরের মধ্যেই ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার টাকা প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব তহবিলের অর্থ দ্রুত ছাড় করার জন্য আলাদা বরাদ্দ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাখাতের এই সামগ্রিক সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের জট যেমন খুলবে, তেমনি শিক্ষক সমাজ আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ফিরে পাবে। বিশেষ করে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে ভুয়া সনদধারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলে শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং শিক্ষা বাণিজ্যের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন দেশের শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট নীতিপ্রণেতারা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।