ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহর। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা নিরসনে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন জরুরি। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকোটকে দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। জোট সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণে এখন আইজেনকোটের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে পুরো ইসরায়েল।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব প্রদান করেছেন, যা নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার বিপরীতে বড় চ্যালেঞ্জ।
- বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং আরব দলগুলোর সাথে সমন্বিত জোট গঠনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন করে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা সম্ভব হয়।
- আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে, যা বর্তমানে ১২০ আসনের মধ্যে অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিরোধী দলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলছেন, বর্তমান সরকারের নীতি দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি নষ্ট করছে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির দীর্ঘদিনের আধিপত্যের বিপরীতে আইজেনকোটের সামনে এখন সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণ। তাকে কেবল তার নিজস্ব জোট নয়, বরং আরব দলগুলোর সাথেও সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের ইতিহাসে এটি একটি বিরল মুহূর্ত, যেখানে সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইজেনকোটের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন মতাদর্শের দলগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা।
গাদি আইজেনকোট জানিয়েছেন, তিনি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন। তবে নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা তার জন্য সহজ হবে না। বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং নেতানিয়াহু সমর্থকদের শক্ত অবস্থানের কারণে সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইজেনকোটের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন।
এই রাজনৈতিক সংকট ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীরা অস্থিরতার কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, অন্যদিকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে মিত্র দেশগুলোও পর্যবেক্ষণ করছে। আইজেনকোট যদি সফলভাবে জোট গঠন করতে পারেন, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। অন্যথায়, দেশটিকে আবারও আগাম নির্বাচনের দিকে ধাবিত হতে হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।