অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং নতুন বরাত বাড়ার ফলে চলতি বছরের অক্টোবরে ভারতের বেসরকারি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এইচএসবিসির তথ্য অনুযায়ী, কম্পোজিট আউটপুট সূচক সেপ্টেম্বরের ৫৫.৯ থেকে বেড়ে অক্টোবরে ৫৬.৭ হয়েছে। উৎপাদন ও পরিষেবা উভয় ক্ষেত্রেই বাজারের অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের অক্টোবরে এইচএসবিসি ফ্ল্যাশ ইন্ডিয়া কম্পোজিট আউটপুট সূচক বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬.৭ হয়েছে, যা গত সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৫৫.৯।
- রপ্তানির জন্য নতুন বরাত বৃদ্ধির হার গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে এবং ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৫৪.৯-এ।
- এইচএসবিসির প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ প্রাঞ্জুল ভান্ডারি জানান, উৎপাদন ও নতুন বরাত বাড়লেও পরিষেবা ক্ষেত্রে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী চাহিদা এবং নতুন অর্ডারের প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে চলতি বছরের অক্টোবরে ভারতের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির প্রকাশিত ফ্ল্যাশ পিএমআই তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে কম্পোজিট আউটপুট সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৭-এ, যা আগের মাস সেপ্টেম্বরে ছিল ৫৫.৯। এই সূচকের মান ৫০-এর উপরে থাকা অর্থনৈতিক সম্প্রসারণকে নির্দেশ করে।
উৎপাদন ও পরিষেবা—উভয় খাতেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাহিদার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি সংক্রান্ত নতুন বরাত গত ছয় মাসের সর্বউচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এইচএসবিসির প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ প্রাঞ্জুল ভান্ডারি উল্লেখ করেছেন যে, চাহিদা বৃদ্ধির এই ধারার সঙ্গে সংগতি রেখে বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যের মজুত বাড়াতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে উপকরণের খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি এলেও এই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতিতে কিছুটা শ্লথগতি লক্ষ করা গেছে। টানা নয় মাস ধরে কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পর অক্টোবরে পরিষেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিয়োগ স্থগিত রেখেছে। উৎপাদন খাতে সামান্য কিছু নিয়োগ হলেও তা ছিল বেশ সীমিত। বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান কাজের চাপ মোকাবিলায় তাদের বিদ্যমান কর্মীদলই যথেষ্ট হওয়ায় বড় পরিসরে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা আপাতত কমেছে।
অসম্পূর্ণ বা বকেয়া কাজের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা গত সাড়ে ছয় বছরের সর্বউচ্চ হ্রাসের রেকর্ড ছুঁয়েছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পরের সময়গুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ভারতীয় বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।