ইসরায়েলের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মুখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিচ্ছে আরব দলগুলো, যা সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় নেতানিয়াহু এই প্রক্রিয়াকে ‘জয় চুরি’ বলে অভিহিত করেছেন। নির্বাচন কমিশন ফলাফল স্পষ্ট করলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জোট গঠনের সমীকরণ এখন তুঙ্গে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে সমর্থন দিচ্ছে আরব দলগুলো, যা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
- প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ এবং ‘জনগণের রায় চুরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কট্টরপন্থীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।
- ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল স্পষ্ট করার পর আইজেনকট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন ছোট দলের সাথে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে (নেসেট) প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে এখন ক্ষমতা হারানোর দ্বারপ্রান্তে। ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন হলেও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার কট্টরপন্থী মিত্ররা সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকট নতুন সরকার গঠনের জোর তৎপরতা শুরু করেছেন, যা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে ইসরায়েলের আরব দলগুলো। কিং মেকার হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এই দলগুলো আইজেনকটকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ায় নেতানিয়াহুর জোট কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন যে, এই জোট গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ‘নিশ্চিত জয়’ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি একে একটি ‘প্রতারণামূলক জোট’ হিসেবে অভিহিত করে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, যেখানে কোনো কারচুপির অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকট জানিয়েছেন যে তারা একটি স্থিতিশীল জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সমর্থন আইজেনকটের জন্য আশীর্বাদ হলেও কট্টর ইহুদিবাদী দলগুলোর সাথে তাদের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
নেতানিয়াহুর এই ‘জয় চুরি’র অভিযোগ ইসরায়েলের বিচার বিভাগ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যদি আইজেনকট সফলভাবে সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তা নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাবে। তবে ক্ষমতার এই রদবদল ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশটির নীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।