দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত ফলে পাসের হার গত বছরের তুলনায় ১১.৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫.৯৮ শতাংশে। চলতি বছর ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯৫৩ জন এবং শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯টিতে। শনিবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট ৪৯টি কলেজ থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যা গত বছরের ৪৩টি থেকে ৬টি বেশি।
- চলতি বছরে বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ১১.৫১ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৫.৯৮ শতাংশ, যেখানে গত বছর পাসের হার ছিল ৫৭.৪৯ শতাংশ।
- এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জনে, যা গত বছর ছিল ৬ হাজার ২৬০ জন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের প্রকাশিত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বোর্ডে সার্বিক পাসের হার গত বছরের তুলনায় ১১.৫১ শতাংশ কমে এবার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫.৯৮ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৫৭.৪৯ শতাংশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, এ বছর মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও সফলভাবে পাস করতে পেরেছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন।
ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর মাত্র ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ২৬০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শুধু জিপিএ-৫ কমেছে ৩ হাজার ৩০৭টি। এ ছাড়া ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা কিছুটা ভালো ফল করেছে; বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪১.৩১ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার ৫০.২৬ শতাংশ। পুরো পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মোট ৪২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবার মোট ৪৯টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এই শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নীলফামারীর ১২টি, কুড়িগ্রামের ৯টি, ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি, দিনাজপুরের ৬টি, লালমনিরহাটের ৬টি, রংপুরের ৩টি, গাইবান্ধার ২টি এবং পঞ্চগড় জেলার ২টি কলেজ। এই ৪৯টি কলেজ থেকে মোট ২৯০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। গত বছর শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা ছিল ৪৩টি, যা এবার বৃদ্ধি পেয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ ধরনের বিপর্যয়কর ফলাফল শিক্ষা ব্যবস্থার মান এবং প্রান্তিক অঞ্চলের কলেজগুলোর পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শিক্ষক সংকট, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং করোনা পরবর্তী শিক্ষার ঘাটতির কারণে এই ফলাফল হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে শূন্য পাস করা কলেজগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পাসের হার ও মান বাড়ানোর জন্য বিশেষ মনিটরিংয়ের দাবি উঠেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।