পাঠ্যবইয়ে বিতর্কিত প্রতীক ও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা এবং নৌকা ব্যবহারের অভিযোগে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মুদ্রিত ৩০ লাখ বই বাজার থেকে প্রত্যাহার ও ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খাগড়াছড়িতে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি ও বাংলা পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লা ও নৌকা প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ১৭ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।
- সারা দেশ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ মুদ্রিত পাঠ্যবই, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ডেকে এনেছে।
- বিতর্কিত এই প্রতীক সংযোজনের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অধীনে প্রকাশিত নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ে প্রতীক ব্যবহারের নামে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং বাংলা বইজুড়ে ‘নৌকা’ প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ভুলের কারণে ইতিমধ্যে সরকারের প্রায় ১৭ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে, যা শিক্ষা খাতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সারা দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিতর্কিত বই প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়গুলো থেকে এসব বই সংগ্রহ করে পুনরায় নতুন ও পরিমার্জিত বই সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে বিগত শিক্ষাক্রমের বইগুলোতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দলীয় প্রতীক পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা।
এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এনসিটিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। তবে সচেতন মহল ও শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, কেবল বদলি নয়, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের পেছনে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি না হয়।
পাঠ্যবইয়ের মতো একটি সংবেদনশীল জাতীয় বিষয়ে এ ধরনের প্রতীকী বিতর্ক এবং আর্থিক অপচয় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত না করলে এ ধরনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে না।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।